কোরআন সম্পর্কে
আল্লাহর বাণী
লেখক ও তথ্য সংগ্রহ-
আব্দুল মতিন ভুঁইয়া
এস.ডি.ই. (অবঃ), টি.এস.সি, গাজীপুর।
প্রকাশকালঃ
১ ফেব্রুয়ারী, ২০০১খ্রীঃ
প্রকাশনায়ঃ
আজাদ কম্পিউটার একাডেমী
লঞ্চঘাট, হোমনা, কুমিল্লা।
প্রচ্ছদ ও মুদ্রনঃ
ইকবাল হোসেন
উৎসর্গ
বড় হুজুর
মরহুম মনিরুল ইসলাম সাহেব
মানুষ রচিত যত লিখিত বিষয় তাতে আজ পর্যন্ত এমন কোন প্রতিশ্রুতি মাওয়া যায়নি যে এর মধ্যে কোন ভূল ভ্রান্তি বা সন্দেহ জনক বা সংশোধনযোগ্য কিছু আছে। বরং এই অভিব্যক্তিই পাওয়া যায় যে, কোন ভূলভ্রান্তি থাকলে বা কিছু সংশোধন করার পরামর্শ দিলে চিরকৃতজ্ঞ হবে এবং পরবর্তী সংস্করণে তা সংশোধন করা হবে। এমনভাবে যত মূল্যবান গ্রন্থই হইকনা উহা যতদিন গত হয় তার নতুন নতুন সংস্করণ বাহির হয়। কোরআন এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এবং এটা একটি সন্দেহমুক্ত গ্রন্থ হিসাবে ঘোষনা দেওয়া হয়েছে।
“ইহা সেই কতাব; ইহাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকীদের জন্য ইহা পথ নির্দেশ,” [২]২
অতঃপর যারা সন্দেহ পোষন করে আল্লাহ তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন,
“আমি আমার বান্দার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি তাহাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকিলে তোমরা তাহার অনূরূপ কোন সূরা আনয়ন কর এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে আহ্বান কর।” [২]২৩
“যদি তোমরা আনয়ন না কর এবং কখনই করিতে পারিবেনা, তবে সেই আগুনকে ভয় কর, মানুষ এবং পাথর হইবে যাহার ইন্ধন, কাফিরদিগের জন্য যাহা প্রস্তুত রহিয়াছে।” [২]২৪
বনি ইসরায়ীলকে তাদের সাথে কিতাব আছে তা স্বরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে,
“আমি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছি তাহা বিশ্বাস কর। ইহা তোমাদের নিকট যাহা আছে উহার প্রত্যয়নকারী। আর তোমরাই উহার প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হইওনা এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মুল্য গ্রহণ করিও না। তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।” [২]৪১
“তোমরা সত্যকে মিথ্যার সহিত মিশ্রিত করিও না এবং জানিয়া শুনিয়া সত্য গোপন করিওনা।” [২]৪২
তারা জেনেশুনে সত্য প্রত্যাখ্যান করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে লাগল এবং তাদের কিতাবের কথা গোপন ও পরিবর্তন করতে লাগল। তখন আল্লাহ সাবধান করে দিলেন,
“তাহাদিগকে যখন বলা হয়, ‘পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করিও না’, তাহারা বলে, ‘আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী।’” [২]১১
“এবং, নিশ্চয় মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তাহার পরে পর্যায়ক্রমে রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছি, মারয়াম-তনয় ‘ঈসাকে’ স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছি এবং ‘পবিত্র আত্মা’ দ্বারা তাহাকে শক্তিশালী করিয়াছি, তবে কি যখনই কোন রাসূল এমন কিছু আনিয়াছে যাহা তোমাদের মনঃপুত নহে তখনই তোমরা অহংকার করিয়াছ আর কতককে অস্বীকার করিয়াছ এবং কতককে হত্যা করিয়াছ?” [২]৮৭
“তাহাদের নিকট যাহা আছে আল্লাহর নিকট হইতে তাহার সমর্থক কিতাব আসিল; যদিও পূর্বে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে তাহারা ইহার সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করিত, তবুও তাহারা যাহা জ্ঞাত ছিল উহা যখন তাহাদের নিকট আসিল তখন তাহারা উহা প্রত্যাখ্যান করিল। সুতরাং সত্য প্রত্যাখ্যানকারীর প্রতি আল্লাহর লা’নত।”[২]৮৯
“উহা কত নিকৃষ্ট যাহার বিনিময়ে তাহারা তাহাদের আত্মাকে বিক্রয় করিয়াছে- উহা এই যে, আল্লাহ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন, ঈর্ষান্বিত হইয়া তাহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিত শুধু এই কারণে যে, আল্লাহ তাঁহার বান্দাদের মধ্য হইতে যাহাকে ইচ্ছ অনুগ্রহ করেন। সুতরাং তাহাদের ক্রোধের উপর ক্রোধের পাত্র হইল। কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।”[২]৯০
তাদের ক্রোধের কারণ এই যে, তাদের বিশ্বাস ছিল শেষ নবী তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে আসবে। যেহেতু শেষ নবী তাদের সম্প্রদায়ে না হয়ে কোরেশদের মধ্যে এসেছে, তাদের আত্ম মর্য্যাদায় আঘাত লেগেছে এবং তারা তামে মেনে নিতে পারেনি এবং তার সম্বন্ধে তার মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
“এবং যখন তাহাদিগকে বলা হয়, ‘আর্লাহ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে ঈমান আনয়ন কর’, তাহারা বলে, ‘আমরাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে আমরা তাহাতে বিশ্বাস করি।’ অথচ তাহা ব্যতীত সব কিছুই তাহারা প্রত্যাখ্যান করে, যদিও উহা সত্য এবং যাহা তাহাদের নিকট আছে তাহার সমর্থক। বল, ‘যদি তোমরা মু’মিন হইবে তবে কেন তোমরা অতীতে নবীগণকে হত্যা করিয়াছিলে?’” [২]৯১
“বল, ‘যে-কেহ জিবরীলের শত্রু এই জন্য যে, সে আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছাইয়া দিয়াছে, যাহা উহার পুর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং যাহা মু’মনিদের জন্য পথপ্রদর্শক ও শুভ সংবাদ’,” [২]৯৭
কিতাবকে অস্বীকারকারীকে আল্লাহ সাবধান করে বলেন-
“এবং নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি স্পস্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করিয়াছি। ফাসিকরা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা প্রত্যাখ্যান করে না।” [২]৯৯
তারা কোরআনকে বিশ্বাস করতে হবে সেজন্য তাদের রক্ষিত কিতাব পেছনে নিক্ষেপ করিল অর্থাৎ গোপন করিল।
“যখন আল্লাহর পক্ষ হইতে তাহাদের নিকট রাসূল আসিল, যে তাহাদের নিকট যাহা রহিয়াছে উহার সমর্থক, তখন যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াচিল তাহাদের একদল আল্লাহর কিতাবটিকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করিল যেন তাহারা জানে না;” [২]১০১
সত্য ত্যাগী কিতাবীরা চায়না যে শেষ নবীর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে আয়াহ নাজিল হউক। এরা কোরআনের আয়াত নিয়ে হাসি ঠাট্টা করিত। আল্লাহ বলেন-
“কিতাবীদের মধ্যে যাহার সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছে তাহারা এবং মুশরিকরা ইহা চাহে না যে, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হউক। অথচা আল্লাহ যাহাকে ইচ্ছা নিজ অনুকল্পার জন্য বিশেষরূপে মোননীত করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।”[২]১০৫
মুমিনগণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহিত কথোপকথনের সময় ‘রাইনা’ শব্দ ব্যবহার করিত। অর্থ- আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন ও ধীরে চলুন। এই শব্দটি য়াহুদীদের ভাষায় ভৎসনা (হে বোকা) ব্যবহৃত হইত। মুমনিগণকে এ শব্দ ব্যবহার করিতে দেখিয়া তাহারাও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহিত ইহা ব্যবহার করিয়া পরস্পরের মধ্যে হাসি ঠাট্টা করিত। সুতরাং মুমিনগণকে ইহা পরিত্যাগ করিয়া পরিস্কার অর্থবোধক শব্দ ‘উনজুরনা’ যাহার অর্থ ‘আমাদের প্রতি লক্ষ করুন’ ব্যবহার করিতে বলা হইয়াছে। এই পরিবর্তনের এবং পূর্ববতী কিতাবের কোন কোন আয়াতের বা নির্দেশের পরিবর্তনের সমালোচনায় আল্লাহ বলেন-
“আমি কোন আয়াত রহিত করিলে কিংবা বিস্মৃত হইতে দিলে তাহা হইতে উত্তম কিংবা তাহার সমতুল্য কোন আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সর্ব নিভয়ে সর্বশক্তিমান।”[২]১০৬
আল্লাহ বলেন-
“য়াহুদীরা বলে, ‘কৃস্টানদের কোন ভিত্তি নাই’, এবং খৃস্টানগণ বলে, ‘য়াহুদীদের কোন ভিত্তি নাই’; অথচ তাহারা কিতাব পাঠ করে। এইভাবে যাহারা কিছুই জানে না তাহারাও অনুরূপ কথা বলে। সুতরাং যে- বিষয়ে তাহাদের মতভেদ আছে কিয়ামতের দিন আল্লাহার উহার মীমাংসা করিবেন।”[২]১১৩
ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আঃ) কা’বা গৃহের প্রাচীর তোলার সময় বলেছিলেন-
“হে আমাদের প্রতিপালক; তাহাদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকট এক রাসূল প্রেরণ করিও যে তোমার আয়তসমূহ তাহাদের নিকট আবৃত্তি করিবে; তাহাদিগকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে এবং তাহাদিহকে পবিত্র করিবে। তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”[২]১২৯
“যেমন আমি তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছি, যআমার আয়তসূমহ তোমাদের নিকট আবৃত্তি করে, তোমাদিককে পবিত্র করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় এবং তোমরা যাহা জানিতে না তাহা শিক্ষা দেয়।”[২]১৫১
“যখন তাহাদিগকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহা তোমরা অনুসরণ কর’, তাহারা বলে,
টাইপের কাজ চলছে...............
